"বিপ্লবীর মৃত্যু ঘরের মধ্যে হতে পারে না, তার মৃত্যু হবে রাজপথে গ্লোরির মৃত্যু।"
পল্টন ট্রাজেডি (১২ ডিসেম্বর ২০২৫) পরবর্তী অতিবাহিত সময়
ওসমান হাদি ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলায় এক বাঙালি মুসলিম পরিবারে ১৯৯৩ সালের ৩০ জুন জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা শরীফ আব্দুল হাদি ছিলেন একজন মাদ্রাসা শিক্ষক ও স্থানীয় ইমাম। ৬ ভাইবোনের মধ্যে হাদি সর্বকনিষ্ঠ। তিনি ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদ্রাসা থেকে আলিম সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।
| DATE OF BIRTH | 30 June 1993 |
| LOCATION | Nalchity, Jhalokati |
| EDUCATION | Dhaka University (Political Science) |
২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের উত্তাল দিনগুলোতে তিনি রাজধানীর রামপুরা এলাকার প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে রাজপথে সক্রিয় নেতৃত্ব দেন। স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর বিপ্লবের মূল চেতনাকে সুসংহত করতে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায়, 'ইনকিলাব মঞ্চ' গড়ে তোলেন, যার মূল লক্ষ্য ছিল ভারতীয় আধিপত্যবাদ রুখে দিয়ে বাংলাদেশের "ইনসাফভিত্তিক সার্বভৌমত্ব" প্রতিষ্ঠা করা।
২০২৬ সালের নির্বাচনের প্রস্তুতিতে ঢাকা-৮ আসনে তাঁর প্রচারণা ছিল অত্যন্ত ইউনিক ও সৃজনশীল। প্রথাগত বড় বড় জনসভার বদলে তিনি বেছে নিয়েছিলেন এলাকাভিত্তিক “চা-সিঙ্গারা” আড্ডা, যেখানে তিনি সাধারণ মানুষের কথা শুনতেন এবং তাদের পরামর্শে নির্বাচনী ইশতাহার তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তাঁর প্রচারণার অন্যতম আলোচিত দিক ছিল কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে মুড়ি-বাতাসা বিতরণ করা, যা তৃণমূলের মানুষের সাথে তাঁর গভীর সখ্যতার বহিঃপ্রকাশ ছিল। গভীর রাতে মসজিদের সামনে লিফলেট বিতরণ কিংবা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পাওয়া অনুদানের পাই-পাই হিসাব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করে তিনি স্বচ্ছতার এক নতুন নজির স্থাপন করেছিলেন।
২০২৫ সালের ১২ই ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর ঢাকার পল্টনে সন্ত্রাসীদের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। সাথে সাথে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়, পরিস্থিতি বুঝে সন্ধায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি, তাই পরিবারের সম্মতি ও বাংলাদেশের অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের সহোযোগিতায়, এয়ার এম্বুলেন্স করে ১৫ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। ৩ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৮ ডিসেম্বর তিনি শাহাদাত বরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে সমগ্র বাংলাদেশ শোকাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। ২০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
| ATTACK | 12 December 2025, Paltan |
| MARTYRDOM | 18 December 2025, Singapore |
| BURIAL | Beside Kazi Nazrul Islam Grave |
"সবাই যখন মৃত্যুকে ভীষণ ভয় পায়, আমি তখন হাসতে হাসতে আল্লাহর কাছে ভীষণ সন্তুষ্টি নিয়ে পৌঁছাতে চাই। আমি একটা ইনসাফের হাসি নিয়ে আমার আল্লাহর কাছে পৌঁছাতে পেরেছি।"
"মৃত্যুর ফয়সালা জমিনে নয় আসমানে হয়!"
"সীমান্ত বাঁচাতে চাইলে ঘাস খেয়ে হলেও অস্ত্র বানাও, বাংলাদেশ!"
ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলায় জন্মগ্রহণ। পিতা: মাওলানা আব্দুল হাদি (মাদ্রাসা শিক্ষক ও স্থানীয় ইমাম), মাতা: তাসলিমা হাদি। ছয় ভাইবোনের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ।
ঝালকাঠি এন.এস. কামিল মাদ্রাসা থেকে আলিম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ২০১০-২০১১ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি।
'লাভায় লালশাক পূবের আকাশ' শিরোনামে প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ। প্রকাশক: দুয়ার পাবলিকেশন্স, ঢাকা।
জুলাই বিপ্লবে সক্রিয় অংশগ্রহণ। ঢাকার রামপুরা এলাকার সমন্বয়ক হিসেবে স্থানীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা।
দীর্ঘ সময়ের শেখ হাসিনা সরকারের পতন। জুলাই শহীদদের বিচার ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে সোচ্চার।
জুলাই বিপ্লবের ধারাবাহিকতায় 'ইনকিলাব মঞ্চ' প্রতিষ্ঠা। সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ।
২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রার্থিতা ঘোষণা।
বিকেল ২:২৫ মিনিটে ঢাকার পল্টন এলাকায় মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর মোটরসাইকেলে আগত দুই সন্ত্রাসীর গুলিতে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত।
সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহাদাত বরণ। বয়স হয়েছিল মাত্র ৩২ বছর।
"হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।"
"যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস বাংলাদেশের জনগণের সাথে একাত্ম হয়ে তরুণ নেতার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছে।"
"তরুণ নেতার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তার পরিবার ও সমর্থকদের প্রতি সমবেদনা জানাই।"
"পাকিস্তান হাই কমিশন গভীর শোক প্রকাশ করছে। আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন।"